১৩ ই ডিসেম্বর , ২০২০
# ৭ দিন ৭ উত্তর
ওরে বাবারে হাতটা একটু ধর রে ,কোমরটা গেলো রে ।পা টা ঝিন ঝিনে ধরে গেল রে ।উঃ মরে যাবো না কি রে । আর পারিনা ।ব্যথা ব্যথা করে জীবনটা শেষ হয়ে গেলো যে ।
হ্যাঁ এই ব্যথা নানারকমের হতে পারে । হাতে ব্যথা , কোমরে ব্যথা , পায়ে ব্যথা , পেটে ব্যথা, বুকে ব্যথা , গলায় ব্যথা ।কোমর ও পায়ে ব্যথা যখন হয় তখনই সন্দেহ জাগে এটা সায়াটিকা ব্যথা না কি !!
এখন জানবো সায়াটিকা আসলে কি ? সায়াটিকা হল একটা স্নায়ু বা নার্ভ ।এই স্নায়ু বেশ লম্বা হয় ।কোমর থেকে ঊরুর পিছন দিকের দুই পায়ের পিছন দিক দিয়ে নীচে পায়ের পাতা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে এই নার্ভ বা স্নায়ু ।এটাই সায়াটিকা নার্ভ ।
সায়াটিকার ব্যথা কেনো হয় :
সায়াটিক নার্ভে যদি কোনো কারণে আঘাত লাগে বা চাপ পড়ে তাহলে সায়াটিকার ব্যথা হতে পারে ।এই ব্যথা দুই ধরনের হয় ।
১) স্নায়ুতান্ত্রিক ব্যথা ( নিউরোজনিক )
২) প্রতিফলিত ব্যথা ( রেফার্ড পেইন )
১. গর্ভকালীন সময়ে পেট যখন খুব বড়ো হয়ে যায় ।পিছনদিকে সায়াটিকার স্নায়ুতে চাপ পড়ে ।তখন কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয় ।প্রসবের পর এই ব্যথা আস্তে আস্তে চলে যায় ।
২.মেরুদন্ডের দুই কশেরুকার মাঝখানের ডিস্ক অনেকসময় স্থানচ্যুত হয়ে সায়টিকা নার্ভের ওপর চাপ দিতে পারে ।তখনই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয় ।
৩. প্যান্টের পিছনের পকেটের মানিব্যাগ ভারী হলে অনেক সময় সায়াটিকা নার্ভে চাপ পড়ে ।তখন ব্যথার সৃষ্টি হয় ।
৪. অতিরিক্ত চেহারা ভারী হলে সায়াটিকা নার্ভে চাপ পড়লে ব্যথা হয় ।
৫. দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভিং করলে ও সামনে ঝুঁকে গাড়ি চালালে এই ব্যথা হয় ।
৬. দীর্ঘক্ষণ একই ভাবে একই ভঙ্গিমায় কাজ করলে এই ব্যথা হয় ।
৭. বিশ্রাম না নিয়ে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে এই ব্যথা হয় ।
৮. মেরুদন্ডে টিউমার হলে সায়াটিকর ব্যথা বাড়ে ।
৯.মেরুদন্ডের হাড় সরু হয়ে গেলে এই ব্যথা বাড়ে ।
লক্ষণসমূহ :
১. সায়াটিকার ব্যথা সাধারণত কোমরের পিছন থেকে পা বরাবর নীচে পায়ের পাতা পর্যন্ত এক প্রবল ব্যথা ।অনেকে একে নিতম্ব ব্যথাও বলে থাকে ।
২. সাধারণত একটি পায়েই ব্যথাটা অনুভূত হয় ।
৩. দীর্ঘসময় ধরে একভাবে কাজ করলে পায়ে শির শির , ঝিনঝিন , ও ব্যথা অনুভূত হয়।
৪. পায়ের পাতায় অসাড় ভাব অনুভূত হওয়া ।
৫. প্রস্বাব পায়খানার বেগ ধরে রাখতে না পারা । প্রস্বাব ধরে রাখতে না পারা ।
৬.চলাফেরা করলে পায়ে ব্যথা অনুভূত হওয়া ।
৭.একভাবে কাত হয়ে শুয়ে বই পড়লে ব্যথা অনুভূত হয় ।
উপসর্গগুলো আচমকা দেখা দেয় ।কিছুদিন পর আবার ভালোও হয়ে যায় ।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাআপনি সেরে যায় ।৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সে এটি বেশি দেখা যায় ।
প্রতিকার :
১. ঈষদ উষ্ণ জলে স্নান করতে হয় ।
২.হালকা যোগাসন করলে উপসম পাওয়া যায় ।
৩. ক্রীম , জেল প্রভৃতি ব্যথার স্থানে লাগানো যেতে পারে ।
৪ . ম্যাসেজ করা যেতে পারে ।( ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী )
৫.গরম ঠান্ডা সেঁক দেওয়া ।
৬. ইলেকট্রো থেরাপি ।
৭.হালকা ভাবে পা নাড়ানো ।
৮. খুব নরম বিছানায় না শোওয়া।
৯. ফিজিওথেরাপি ।
১০. আকুপাংচার ।
১১. ব্যথার ওষুধ খাওয়া ।এতে অনেক সময় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে ।
১২.স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ ।
১৩. অস্ত্রপ্রচার ।
১৪. একই ভাবে অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা ।
১৫.কোমরে বেল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে ।
১৬. আকুপ্রেসার জুতো ।
দীর্ঘদিন একইভাবে যন্ত্রণা হলে নিউরো সার্জেন , নিউরোলজিস্ট এর পরামর্শ নেওয়া দরকার ।
চিত্র সূত্র : গুগল
No comments:
Post a Comment